ভরসা<br>
এক<br>
কলেজের মাঠের কিনারে থাকা সিমেন্টের বেঞ্চেটায় বসে জুতোর ফিতে বাঁধছিল অভি।<br>
-কোন ইয়ার? কলেজে কী নতুন?<br>
<br>
অভি খেয়াল করল ওর পাশে ওর অজান্তেই একটা মেয়ে বসেছে, পড়নে হলুদ রঙের চুড়িদার।মুখটা একদম মায়াবি। নেশায় ভরা চোখ, ধনুকের মতো ভ্রুকুটি, গোলাপি ঠোঁট, গাল দুটো ষ্ট্রবেরির আভায় ভরা। শরীরের রঙের সাথে পরিধানের রঙ মিশে মেয়েটাকে আরো মায়াবি লাগছে। খনিকের জন্য চোখটা আটকে গিয়েছিল অভির।<br>
-আমি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলিনি। বলেছি কলেজে কি নতুন?<br>
ঘোর কেটে গেল অভির। নিজের কাজে লজ্জিত হয়ে মাথা নীচু করে ফেলল অভি। ধীর ভাবে বলল-<br>
-হ্যাঁ আমি নতুন। জিওগ্রাফি ফাষ্ট ইয়ার। <br>
-কী বলছ? আমিও তো। যাক বাবা ঢুকেই একজন ক্লাসমেট পেলাম। তুমিই বললাম রাগ কোরো না। আমার নাম লিপি। লিপি সেন। জানো জিওগ্রাফি আমার ফেভারিট সাব্জেক্ট। তোমারও কি.....<br>
-আরে এত কথা বলছ কেন? আর এত তাড়াতাড়ি বলার কি আছে?<br>
-ওহ....সরি। একটু বেশিই কথা বলি তাইনা? তোমার নাম কি?<br>
-আমি অভি চ্যাটার্জি। আর হ্যাঁ জিওগ্রাফি আমারও ফেভারিট সাব্জেক্ট।<br>
-বুঝলাম।<br>
- কী বুঝলে?<br>
-তুমিও বাকিদের মতো মেয়ে দেখতে ভালোবাস। খানিকটা হেসেই বলে লিপি<br>
-আমি? একটুও না। নিজের ওপরে রাগ ওঠে অভির<br>
- ওকে ওকে রাগ হতে হবে না। দেখ আমার সব পুরোনো স্কুলের ফ্রেন্ডরা অন্য কলেজে চলে গিয়েছে। আর যারা এখানে রয়েছে তাদের ভাল লাগে না। তোমাকে দেখে বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। ফ্রেন্ড ?? <br>
- ঠিক আছে। আমি আপাতত আসি। একটু কাজ আছে। কাল কথা হবে। Bye...<br>
- Ok. Bye....<br>
দুই<br>
<br>
- কিরে কই যাচ্ছিস?<br>
- আরে অফিস রুমে। লাইব্রেরী কার্ডটা নিয়ে আসি।<br>
-চল আমিও যাব।<br>
-ঠিক আছে চল।<br>
-তা বন্ধু আসতে আসতেই মেয়ে জুটিয়ে ফেললি?<br>
-মানে?<br>
-ইসস অভি এখনো বাচ্চা রয়েছিস? পাশে যে মেয়েটা বসেছিল, কে ওটা বৌদি?<br>
-নীশিথ ফাজলামি করিস না। ক্লাসমেট হবে মনে হয়। লিপি সেন নাম বলল। জিওগ্রাফিরই ষ্টুডেন্ট।<br>
- আমি চিনি। শোন পটিয়ে ফেল। সুন্দরীর সাথে সাথে মালদার পার্টিও আছে।<br>
-stop it.. ok.. চল bye...<br>
আরে আরে কী হল? ক্ষেপে গেলি নাকি? শোন....<br>
কলেজের প্রথম দিন থেকেই পরিচয় হয় অভি আর লিপির। লিপি আর নীশিথ একে অপরকে খুব ভাল করে চেনে। অপরদিকে নীশিথ আর অভিও দুজনের প্রানবন্ধু।<br>
পুরোনো স্কুলে নীশিথ আর লিপি একই সাথে পড়ত। সেখানে লিপিকে একাধিকবার প্রপোজ করেও ব্যার্থ হয়েছে নীশিথ। নীশিথের চরিত্র একদমই ভালো নয়, আজ এক মেয়ে কাল আর এক। লিপি ধনী পরিবারের মেয়ে হলেও মাটির সাথে পা মিলিয়ে চলতেই ভালোবাসত। অভি আলাদা স্কুলে পড়ত। তাই সবটাই ছিল তার অজানা। কলেজে অভিকে দেখে লিপির বন্ধু হিসেবে পছন্দ হয়। তারপর নিজেই এগিয়ে আলাপ করে। তারপর....<br>
<br>
ক্রমে ক্রমে বয়ে যায় সময়ের নদী,<br>
লিপি অভির বন্ধুত্বের হয় প্রেমের পরিনতি।<br>
নীশিথের সেসব দেখে পুড়ে যায় দিল,<br>
মন জুড়ে হতে থাকে হিংসের ফিল।<br>
বন্ধু হওয়ায় বলতে পারে না সে কিছু,<br>
বসন্ত শেষ করতে মন হতে থাকে নীচু।<br>
তিন<br>
<br>
-হ্যাঁ রে লিপি এত ছেলের সাথে মেশে কেন রে?<br>
-বুঝিসই তো ক্লাসের সবটাই ও ভাল বোঝে। ওর দায়িত্ব। তাই....<br>
-তুইও তো করিস।কই তোকেতো মেয়েদের সাথে দেখিনা?<br>
- আরে আমিতো এড়িয়ে যাই। ও এসব পারে না। আর সাহায্য করাতে খারাপ কি?<br>
-না না তা নেই। লিপিও তো এড়াতে পারে। তুই জন্য mind করিস না, আমি হলে এসব সহ্য করতে পারতাম না। Anyway তোরা ভালো থাকলেই ভালো। আমি আসিরে ক্লাশ আছে।<br>
<br>
মূলত সেদিন থেকেই অভি আর লিপির দূরত্বের সুত্রপাত।ধীরে ধীরে দূরে সরতে থাকে দুজনে। আর নীশিথ দুজনের কাছের পাত্র হয়ে দুজনকে ভুল হিসেব বোঝায়। অভির বন্ধু হওয়ার সুবাদে লিপির বিশ্বাস হরণ করে নীশিথ।<br>
<br>
- কীরে আজ কলেজে এলিনা। মুখ ভার করে এখানে একা একা কি করছিস?<br>
- আর ভালো লাগছে না নীশিথ। লিপি ভাবে আমি ওকে সন্দেহ করি। আমার কেন জানি দিনের পর দিন ওর প্রতি বিশ্বাস চলে যাচ্ছে রে। <br>
-দেখ অভি তোরা কলেজের sweet couple। আর এরকম তো সব সম্পর্কেই হয়। মিটে যাবে সব।<br>
-কী মিটে যাবে? কিছু মিটবেনা। ও আমাকে ভালোই বাসেনা। <br>
-পাগল হয়েছিস তুই? তোর প্রমানের দরকার তো? তাহলে তুই ওর কাছে এমন কিছু আবদার কর যা তোদের একদমই personal হবে। you guys are like husband and wife. আর কিছু না হোক দু একটা private photo তো চাইতেই পারিস।<br>
-কী বলছিস এসব। ছিঃ...<br>
-বাহ্ রে... আমি আমার মত বললাম। বাকিটা তোর ওপর। ভালো বুদ্ধি দিলেও খারাপ দেখছি। দুই বছরের সম্পর্কে এটা কি খুব বড়ো চাওয়া? যাই হোক আমি আসছি ক্লাশ আছে।<br>
নীশিথ চলে যাবার পর অভি ভাবতে থাকে খুব কি ভুল বলে গেল সে? ধীরে ধীরে কদর্য হতে থাকা মনটি সায় দিল নীশিথের কথায়।
ধীরে ধীরে যখন নিজের ভুল ব
এক<br>
কলেজের মাঠের কিনারে থাকা সিমেন্টের বেঞ্চেটায় বসে জুতোর ফিতে বাঁধছিল অভি।<br>
-কোন ইয়ার? কলেজে কী নতুন?<br>
<br>
অভি খেয়াল করল ওর পাশে ওর অজান্তেই একটা মেয়ে বসেছে, পড়নে হলুদ রঙের চুড়িদার।মুখটা একদম মায়াবি। নেশায় ভরা চোখ, ধনুকের মতো ভ্রুকুটি, গোলাপি ঠোঁট, গাল দুটো ষ্ট্রবেরির আভায় ভরা। শরীরের রঙের সাথে পরিধানের রঙ মিশে মেয়েটাকে আরো মায়াবি লাগছে। খনিকের জন্য চোখটা আটকে গিয়েছিল অভির।<br>
-আমি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলিনি। বলেছি কলেজে কি নতুন?<br>
ঘোর কেটে গেল অভির। নিজের কাজে লজ্জিত হয়ে মাথা নীচু করে ফেলল অভি। ধীর ভাবে বলল-<br>
-হ্যাঁ আমি নতুন। জিওগ্রাফি ফাষ্ট ইয়ার। <br>
-কী বলছ? আমিও তো। যাক বাবা ঢুকেই একজন ক্লাসমেট পেলাম। তুমিই বললাম রাগ কোরো না। আমার নাম লিপি। লিপি সেন। জানো জিওগ্রাফি আমার ফেভারিট সাব্জেক্ট। তোমারও কি.....<br>
-আরে এত কথা বলছ কেন? আর এত তাড়াতাড়ি বলার কি আছে?<br>
-ওহ....সরি। একটু বেশিই কথা বলি তাইনা? তোমার নাম কি?<br>
-আমি অভি চ্যাটার্জি। আর হ্যাঁ জিওগ্রাফি আমারও ফেভারিট সাব্জেক্ট।<br>
-বুঝলাম।<br>
- কী বুঝলে?<br>
-তুমিও বাকিদের মতো মেয়ে দেখতে ভালোবাস। খানিকটা হেসেই বলে লিপি<br>
-আমি? একটুও না। নিজের ওপরে রাগ ওঠে অভির<br>
- ওকে ওকে রাগ হতে হবে না। দেখ আমার সব পুরোনো স্কুলের ফ্রেন্ডরা অন্য কলেজে চলে গিয়েছে। আর যারা এখানে রয়েছে তাদের ভাল লাগে না। তোমাকে দেখে বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। ফ্রেন্ড ?? <br>
- ঠিক আছে। আমি আপাতত আসি। একটু কাজ আছে। কাল কথা হবে। Bye...<br>
- Ok. Bye....<br>
দুই<br>
<br>
- কিরে কই যাচ্ছিস?<br>
- আরে অফিস রুমে। লাইব্রেরী কার্ডটা নিয়ে আসি।<br>
-চল আমিও যাব।<br>
-ঠিক আছে চল।<br>
-তা বন্ধু আসতে আসতেই মেয়ে জুটিয়ে ফেললি?<br>
-মানে?<br>
-ইসস অভি এখনো বাচ্চা রয়েছিস? পাশে যে মেয়েটা বসেছিল, কে ওটা বৌদি?<br>
-নীশিথ ফাজলামি করিস না। ক্লাসমেট হবে মনে হয়। লিপি সেন নাম বলল। জিওগ্রাফিরই ষ্টুডেন্ট।<br>
- আমি চিনি। শোন পটিয়ে ফেল। সুন্দরীর সাথে সাথে মালদার পার্টিও আছে।<br>
-stop it.. ok.. চল bye...<br>
আরে আরে কী হল? ক্ষেপে গেলি নাকি? শোন....<br>
কলেজের প্রথম দিন থেকেই পরিচয় হয় অভি আর লিপির। লিপি আর নীশিথ একে অপরকে খুব ভাল করে চেনে। অপরদিকে নীশিথ আর অভিও দুজনের প্রানবন্ধু।<br>
পুরোনো স্কুলে নীশিথ আর লিপি একই সাথে পড়ত। সেখানে লিপিকে একাধিকবার প্রপোজ করেও ব্যার্থ হয়েছে নীশিথ। নীশিথের চরিত্র একদমই ভালো নয়, আজ এক মেয়ে কাল আর এক। লিপি ধনী পরিবারের মেয়ে হলেও মাটির সাথে পা মিলিয়ে চলতেই ভালোবাসত। অভি আলাদা স্কুলে পড়ত। তাই সবটাই ছিল তার অজানা। কলেজে অভিকে দেখে লিপির বন্ধু হিসেবে পছন্দ হয়। তারপর নিজেই এগিয়ে আলাপ করে। তারপর....<br>
<br>
ক্রমে ক্রমে বয়ে যায় সময়ের নদী,<br>
লিপি অভির বন্ধুত্বের হয় প্রেমের পরিনতি।<br>
নীশিথের সেসব দেখে পুড়ে যায় দিল,<br>
মন জুড়ে হতে থাকে হিংসের ফিল।<br>
বন্ধু হওয়ায় বলতে পারে না সে কিছু,<br>
বসন্ত শেষ করতে মন হতে থাকে নীচু।<br>
তিন<br>
<br>
-হ্যাঁ রে লিপি এত ছেলের সাথে মেশে কেন রে?<br>
-বুঝিসই তো ক্লাসের সবটাই ও ভাল বোঝে। ওর দায়িত্ব। তাই....<br>
-তুইও তো করিস।কই তোকেতো মেয়েদের সাথে দেখিনা?<br>
- আরে আমিতো এড়িয়ে যাই। ও এসব পারে না। আর সাহায্য করাতে খারাপ কি?<br>
-না না তা নেই। লিপিও তো এড়াতে পারে। তুই জন্য mind করিস না, আমি হলে এসব সহ্য করতে পারতাম না। Anyway তোরা ভালো থাকলেই ভালো। আমি আসিরে ক্লাশ আছে।<br>
<br>
মূলত সেদিন থেকেই অভি আর লিপির দূরত্বের সুত্রপাত।ধীরে ধীরে দূরে সরতে থাকে দুজনে। আর নীশিথ দুজনের কাছের পাত্র হয়ে দুজনকে ভুল হিসেব বোঝায়। অভির বন্ধু হওয়ার সুবাদে লিপির বিশ্বাস হরণ করে নীশিথ।<br>
<br>
- কীরে আজ কলেজে এলিনা। মুখ ভার করে এখানে একা একা কি করছিস?<br>
- আর ভালো লাগছে না নীশিথ। লিপি ভাবে আমি ওকে সন্দেহ করি। আমার কেন জানি দিনের পর দিন ওর প্রতি বিশ্বাস চলে যাচ্ছে রে। <br>
-দেখ অভি তোরা কলেজের sweet couple। আর এরকম তো সব সম্পর্কেই হয়। মিটে যাবে সব।<br>
-কী মিটে যাবে? কিছু মিটবেনা। ও আমাকে ভালোই বাসেনা। <br>
-পাগল হয়েছিস তুই? তোর প্রমানের দরকার তো? তাহলে তুই ওর কাছে এমন কিছু আবদার কর যা তোদের একদমই personal হবে। you guys are like husband and wife. আর কিছু না হোক দু একটা private photo তো চাইতেই পারিস।<br>
-কী বলছিস এসব। ছিঃ...<br>
-বাহ্ রে... আমি আমার মত বললাম। বাকিটা তোর ওপর। ভালো বুদ্ধি দিলেও খারাপ দেখছি। দুই বছরের সম্পর্কে এটা কি খুব বড়ো চাওয়া? যাই হোক আমি আসছি ক্লাশ আছে।<br>
নীশিথ চলে যাবার পর অভি ভাবতে থাকে খুব কি ভুল বলে গেল সে? ধীরে ধীরে কদর্য হতে থাকা মনটি সায় দিল নীশিথের কথায়।
ধীরে ধীরে যখন নিজের ভুল ব

Comments
Post a Comment